banner ছাত্ররাজনীতি ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান জানালেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা, নিলেন শপথও - Entertainment

Header Ads

ছাত্ররাজনীতি ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান জানালেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা, নিলেন শপথও

 ছাত্ররাজনীতি ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান জানালেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা, নিলেন শপথও


বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্ররাজনীতি নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে শিক্ষার্থীরা বলেছেন, সব ধরনের লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে তাঁদের বুয়েট শিক্ষার্থীদের যে দৃঢ় অবস্থান, তা থেকে তাঁরা কোনো অবস্থাতেই সরে আসবেন না। যেকোনো ছাত্ররাজনীতি ও মৌলবাদের চর্চা বুয়েট ক্যাম্পাসে কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না, তা সে যে দলেরই হোক না কেন। সম্প্রতি সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর থেকে গ্রেপ্তার বুয়েট শিক্ষার্থীদের অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি এবং প্রমাণিত না হলে হয়রানি না করার দাবিও জানিয়েছেন বুয়েট শিক্ষার্থীরা।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ার সামনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। সংবাদ সম্মেলনের আগে সমস্বরে 'নৈতিকতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বৈষম্যমূলক অপসংস্কৃতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারকে সমূলে উৎপাটিত' করার শপথও নেন তাঁরা। আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় বুয়েট থেকে আজীবন বহিষ্কৃত ছাত্র আশিকুল ইসলাম ওরফে বিটু সম্প্রতি আদালতের রায় নিয়ে ক্লাসে ফিরেছেন। তাঁর সঙ্গে ক্লাস ও ক্যাম্পাস শেয়ার করতে চান না বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান শিক্ষার্থীরা। এ
ব্যাপারে বুয়েট প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করার হুমকিও দেন তাঁরা।

মঙ্গলবার দুপুরে বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ার সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন বুয়েটের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। সংবাদ সম্মেলনের আগে সমস্বরে 'নৈতিকতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বৈষম্যমূলক অপসংস্কৃতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারকে সমূলে উৎপাটিত' করার শপথও নেন তাঁরাছবি: সাজিদ হোসেন

আজ বেলা ১টা ২৫ মিনিটে বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে ডান হাত বাঁ বুকে রেখে শপথ পাঠ করেন বুয়েটের কয়েক শ শিক্ষার্থী। শপথে বলা হয়, 'আমি প্রতিজ্ঞা করছি যে এ মুহূর্ত থেকে বুয়েট পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে আমি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার কল্যাণ ও নিরাপত্তার জন্য আমার ওপর অর্পিত ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক, নৈতিক ও মানবিক সব ধরনের দায়িত্ব সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় যেকোনো অন্যায়-অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার থাকব। আমরা আরও প্রতিজ্ঞা করছি যে বুয়েট ক্যাম্পাসে সব ধরনের সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থানকে আমরা সম্মিলিতভাবে রুখে দেব। নৈতিকতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বৈষম্যমূলক অপসংস্কৃতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারকে আমরা সমূলে উৎপাটিত করব। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় যেন আর কোনো নিষ্পাপ প্রাণ ঝরে না যায়, কোনো নিরপরাধ যেন অত্যাচারের শিকার না হয়, তা আমরা সবাই মিলে নিশ্চিত করব।'

এরপরই সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে বলা হয়, 'লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির চরমতম রূপ বারবার আঘাত হেনেছে আমাদের বুয়েট ক্যাম্পাসে। ২০০২ সালে থেকে শুরু করে ২০১৯ সাল — ছাত্ররাজনীতির অন্ধকার অধ্যায় তার ভয়ংকর দাগ রেখে গেছে আমাদের এ ক্যাম্পাসে। কালের পরিক্রমায় নিজেরা আন্দোলন করে দাবি আদায় নিশ্চিত করে সব বাধা ডিঙিয়ে সব শিক্ষার্থী ঐক্যবদ্ধ হয়ে যখন সুস্থ-সুন্দর একটি পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করেছে, তখনই আবারও বুয়েট শিক্ষার্থীদের নিরপেক্ষ মনোভাবকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে অপপ্রচার চালাচ্ছে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল। গত ৩০ জুলাই বুয়েটের ২৪ বর্তমান শিক্ষার্থীসহ ৩৪ জন সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে নাশকতার পরিকল্পনাকারী সন্দেহে আটক হন। পরে মহামান্য আদালতের মাধ্যমে তাঁদের জামিন মঞ্জুর হয়। এ বিষয়ে আমরা রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে একটি সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার আশা করছি।'

গ্রেপ্তার হয়ে পরে জামিন পাওয়া ওই ৩৪ জনের প্রত্যেকেই যদি দোষী প্রমাণিত হন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবশ্যই তাঁদের বিপক্ষে থাকবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট অবস্থান জানান বুয়েটের শিক্ষার্থীরা।

   গ্রেপ্তার হয়ে পরে জামিন পাওয়া ওই ৩৪ জনের প্রত্যেকেই যদি দোষী প্রমাণিত হন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবশ্যই তাঁদের বিপক্ষে থাকবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট অবস্থান জানান বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, 'একইভাবে যদি       তাঁদের মধ্যে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাহলে নির্দোষদের যেন আর কোনোভাবে    কোনো হয়রানির স্বীকার হতে না হয়, সে ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট থাকব এবং বুয়েট প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করব। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে          কোনো সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত কি না বা তাঁরা ক্যাম্পাসে অন্য শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করছেন কি না, এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্তের জন্য আমরা         বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছি। যদি তাঁদের এমন কোনো          সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়, তবে বুয়েটের অধ্যাদেশ অনুযায়ী তাঁদের শাস্তি নিশ্চিত         করতে হবে এবং এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে। যদি তাঁরা          নির্দোষ হন, তাহলে তাঁরা যেন সুস্থ একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন, সেই দাবিও জানানো হচ্ছে।'

সব ধরনের লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে আমাদের বুয়েট শিক্ষার্থীদের যে দৃঢ় অবস্থান, তা থেকে আমরা কোনো অবস্থাতেই সরে আসব না। যেকোনো ছাত্ররাজনীতি ও মৌলবাদ চর্চা বুয়েট ক্যাম্পাসে কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না, তা সে যে দলেরই হোক না কেন। ইতিপূর্বে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পাওয়া দুই শিক্ষার্থীর ব্যাপারেও ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ছাত্ররাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত কি না বা অন্য কাউকে প্রভাবিত করছেন কি না, এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এ ইস্যুগুলো নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক বিবৃতি। এ ছাড়া অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ (যেমন BUETian বুয়েটিয়ান) থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্ধৃত করে বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করে না।

trans-duration);">বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন


No comments

Powered by Blogger.
banner